পট চিত্র

34 views
1 Comment

পট চিত্র

‘পট চিত্র” আঁকার জন্য কি ব্যবহার করা হত?

লোকচিত্রকলার এক বিশিষ্ট অঙ্গ পটচিত্র । পটশিল্পের সূচনা-ইতিহাস নির্দিষ্ট করে জানা না গেলেও ধারণা করা হয়, এ-শিল্পের উদ্ভব প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে। প্রাচীন কাল থেকে পটুয়ারা এ-উপমহাদেশের সাধারণ মানুষকে দর্শন-শ্রবণের মাধ্যমে বিনোদন ও শিক্ষা দিয়ে আসছেন। ভারুত, অমরাবতী, অজন্তার চিত্রকলায় ‘গল্প বলা’র যে ঢঙ বা প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়, তা পটচিত্রেরই অনুরূপ।

কাপড়ের ওপর ছবি আঁকার শিল্পই হল পটচিত্র। অনেকে পট অর্থ ইংরেজি (চড়ঃ) মনে করে পটচিত্র বলতে পাত্রের গায়ে আঁকা ছবি মনে করেন। আসলে পট শব্দটি সংস্কৃত পট্ট বা পালি পট্টিকা থেকে এসেছে, যার অর্থ কাপড়। যারা পটে ছবি আঁকতেন তাদের বলা হত পটুয়া। পটুয়ারা ছিলেন লোকশিল্পী বা গ্রামীণশিল্পী। পটুয়ারা বংশ পরম্পরায় ছবি আঁকতেন। আজকাল এঁদের আর দেখা যায় না।

কাপড়ের ওপর কাদা ও গোবর মিশ্রিত একধরনের আস্তরণ দিয়ে তা শুকিয়ে সেই কাপড়ের ওপর ছবি আঁকা হত। কখনও কখনও আবার কাপড়ের ওপর কাগজ সেঁটে তার ওপর চুন বা খড়ি মাটির প্রলেপ দিয়ে পটের জমিন তৈরি করা হত। তাঁরা দেশীয় একধরনের মোটা কাগজের ওপরও ছবি আঁকতেন। পটচিত্রে সাধারণত কালো, লাল, হলুদ, সবুজ খয়েরি ও নীল রঙের ব্যবহার দেখা যায়। সোনালি ও রুপালি রঙের ব্যবহারও মাঝে মাঝে লক্ষ্য করা যায়। রঙ তৈরির জন্য পটুয়ারা বনজ বা খনিজ পদার্থ ব্যবহার করতেন। চাল কালো করে ভেজে কালো রঙ, সিঁদুর বা পাকা তেলাকুচা ফল থেকে লাল, হরিতাল বা কাঁচা হলুদ আর ঘুষুংমাটি মিশিয়ে হলুদ, খড়িমাটি দিয়ে সাদা, ময়ুরকণ্ঠী গুঁড়ো দিয়ে নীল রঙ বানানো হত। শুকানোর পর রঙ যেন টেকসই হয়, সে-জন্য তেঁতুল বিচি গরম পানিতে ভেজানো আঠা অথবা বাবলা বা নিম গাছের আঠা কিংবা খয়েরের আঠা বা গাদের আঠা বা শিরীষের আঠা বার্নিশের মতো ব্যবহার করা হত। তুলি তৈরি করা হত সাধারণ বাঁশকাঠির সঙ্গে ছাগলের লোম সুতা দিয়ে বেঁধে।

0